নিউজ ব্যাংক ২৪. নেট : নারায়ণগঞ্জ জেলার জালকুড়ি এলাকায় প্রত্যাবিত ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের জন্য বসতবাড়ির ভূমি অধিগ্রহণ না করে অন্যত্র কৃষি বা নাল জমি দিয়ে অধিগ্রহণ করার জন্য মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
রবিবার ৩১ আগস্ট সকাল ১০টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গনে জালকুড়ি এলাকাবাসি’র উদ্যোগে মানববন্ধন ও স্মারক লিপি প্রদান করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আমরা নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৯ নং ওয়ার্ড জালকুড়ি এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। আমাদের পূর্ব পুরুষসহ আমরা দীর্ঘ বছর যাবৎ অত্র এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছি। আমাদের অত্র এলাকায় শতাধিক পরিবারের বসবাস। আমরা একে অপরের আত্মীয় ও প্রতিবেশী এবং সুখে-দুঃখে বিপদে আপদে আমরা একে অপরের সর্বদা পাশে থাকি। আমাদের এলাকায় বিভিন্ন জেলা হতে আগত লোকজন বাড়ি-ঘর এবং ব্যবসা বাণিজ্য করে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে আছে। এখানে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেমন- যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, আবহাওয়া অফিস, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মাদকাশক্তি নির্মূল কেন্দ্র, সরকারি কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্ট্রার, মসজিদ-মাদ্রাসা প্রভৃতি। এসব প্রতিষ্ঠান হতে প্রশিক্ষণ নিয়ে এলাকার বেকার যুব সমাজের নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে এবং অন্যদের ও আত্মনির্ভরশীল হতে সাহায্য করছে। আমাদের ভূমি অধিগ্রহণের নামে বসতভিটা উচ্ছেদের ফলে অত্র এলাকার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বেকারত্বের ঝুঁকি ও সামাজিক শৃংঙ্খলা বিনষ্ট হওয়ার প্রবল সম্ভবনা রয়েছে।
অতএব, আপনার নিকট এলাকাবাসি সকলের পক্ষ হতে আকুল আবেদন এই যে, ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের জন্য জালকুড়ি এলাকায় বসতবাড়ির ভূমি অধিগ্রহণ না করে অন্যত্র কৃষি বা নাল জমি দিয়ে অধিগ্রহণ করার বিষয়টি সু-দৃষ্টি প্রাথর্ণা করছি।
বক্তারা আরও বলেন, প্রত্যাবিত প্রকল্পে জালকুড়ি এলাকাবাসি বৈষম্যের শিকার হবে, যা প্রাকৃতিক ন্যায়বিচার (Principle of Natural Justice) ও সমান আচরণের নীতি (Doctrine of Equality) পরিপন্থী।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, আমরা সরকারের প্রতি যথাযথ সম্মান জানিয়ে বিকল্প প্রস্তাব করি, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের পূর্ব পাশে পর্যাপ্ত খালি কৃষি ও নাল জমি বিদ্যমান, যেখানে কোনো বসতবাড়ি নেই। সেসব এলাকা অধিগ্রহণ করলে- “উন্নয়ন প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, সরকারের বিপুল অর্থ সাশ্রয় হবে, এলাকার পৈত্রিক ভিটা, সামাজিক পরিবেশ ও জনজীবন অক্ষুণ্ণ থাকবে।
অতএব, ন্যায়বিচার ও জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষার স্বার্থে আমরা এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বিনীতভাবে প্রার্থনা করছি যে, জালকুড়ি এলাকার বসতবাড়ি অধিগ্রহণ না করে পার্শ্ববর্তী কৃষি বা নাল জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে সুদৃষ্টি প্রদানপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।
সরকারি সিদ্ধান্তে যদি অত্র এলাকায় বসতবাড়ির ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়, তবে- ১. শতাধিক পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়ে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে। ২. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও জনকল্যাণমূলক অবকাঠামোর কার্যক্রম বিঘ্নিত হবে। ৩. সামাজিক সম্প্রীতি, নিরাপত্তা এবং এলাকার দীর্ঘস্থায়ী সামাজিক অবকাঠামো ধ্বংস হবে। ৪. উন্নয়নের নামে একই এলাকার মানুষ একাধিকবার অধিগ্রহণের শিকার হয়ে অন্যায্য]]
অতএব, এলাকাবাসি সকলের পক্ষ হতে আকুল আবেদন এই যে, ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের জন্য জালকুড়ি এলাকায় বসতবাড়ির ভূমি অধিগ্রহণ না করে অন্যত্র কৃষি বা নাল জমি দিয়ে অধিগ্রহণ করার বিষয়টি সু-দৃষ্টি প্রাথর্ণা করছি।